F99 Responsible Gaming – আসক্তি প্রতিরোধ

R

জুয়া আসক্তি হতে পারে। এটা সত্য। চিন্তিত বলেই যদি এই পেজ পড়ছেন, সেটা ভালো লক্ষণ।

সোজা কথা

মজার হতে পারে জুয়া। কিন্তু কারো কারো জন্য এটা সমস্যা হয়ে যায়। শুরুতে মনে হয় সব নিয়ন্ত্রণে আছে। তারপর একদিন দেখবেন হাতের বাইরে চলে গেছে।

শুধু টাকার ব্যাপার নয় এটা। পরিবার ভাঙে। ঘুম আসে না। সবসময় টেনশন থাকে। কেউ কেউ এত দূর চলে যায় যে ফিরতে পারে না।

সমস্যা আছে মনে হলে এই পেজটা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। একা সমাধান করার চেষ্টা করবেন না।

কখন বুঝবেন সমস্যা হয়েছে

নিচের জিনিসগুলো হচ্ছে কিনা দেখুন। তিন চারটা মিললে সাবধান হন।

রাত দুই তিনটা পর্যন্ত খেলছেন। ঘুম হচ্ছে না ঠিকমতো।
হারানো টাকা তুলতে আরও বেট করছেন। ভাবছেন এবার জিতবই।
বন্ধু বা আত্মীয়ের কাছে টাকা ধার করছেন। ক্রেডিট কার্ড শেষ হয়ে গেছে।
পরিবারকে বলছেন না কত টাকা খেলছেন। মিথ্যা বলতে হচ্ছে প্রায়ই।
জুয়া না খেললে অস্থির লাগে। মন খারাপ থাকে সারাক্ষণ।
কাজে মন নেই একদম। শুধু জুয়ার কথাই ভাবছেন।
শেষবার বলে আবার খেলছেন। থামতে পারছেন না কিছুতেই।
বাড়ির খরচের টাকা জুয়ায় দিচ্ছেন। বিল দিতে পারছেন না সময়মতো।

খুব জরুরি কথা: ভাবছেন সব শেষ হয়ে গেছে? আত্মহত্যার কথা মাথায় আসছে? এখনই কাউকে বলুন। পরিবার হোক, বন্ধু হোক বা হেল্পলাইনে ফোন করুন।

নিজেকে থামানোর উপায়

এখনো সামলাতে পারবেন মনে হলে এই জিনিসগুলো করুন।

টাকার লিমিট
দিনে বা সপ্তাহে কত টাকা খেলবেন ঠিক করুন। শেষ হলে আর খেলা যাবে না।
যেমন দিনে ৫০০ টাকা। শেষ হলে ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে।
সময় লিমিট
দিনে কত ঘণ্টা খেলবেন সেট করুন। সময় শেষে লগআউট হয়ে যাবে।
যেমন দিনে এক ঘণ্টা। তারপর বন্ধ।
সেলফ এক্সক্লুশন
নিজেকে এক মাস, ছয় মাস বা চিরতরে ব্লক করুন। এই সময়ে লগইন হবে না।
যেমন ছয় মাস ব্লক। কোনোভাবেই খুলবে না।
বিরতি নিন
চব্বিশ ঘণ্টা, সাত দিন বা এক মাস বিরতি। এই সময়ে খেলা বন্ধ থাকবে।
যেমন সাত দিন বিরতি। কোনো গেম না।

মনে রাখবেন: সৎ থাকলেই এই জিনিসগুলো কাজ করবে। নতুন অ্যাকাউন্ট খুলবেন না। অন্য সাইটেও যাবেন না।

পরিবারের কী হয়

শুধু আপনার সমস্যা নয় জুয়া। পরিবারও কষ্ট পায় সমানভাবে।

  • স্ত্রী বা স্বামী: মিথ্যা বলছেন তাদের সাথে। টাকা লুকাচ্ছেন। বিশ্বাস ভাঙছে ধীরে ধীরে। অনেক দম্পতি আলাদা হয়ে যায় এভাবে।
  • সন্তান: তারা বোঝে কিছু একটা ভুল হচ্ছে। বিরক্ত থাকেন আপনি। তাদের সময় দেন না। স্কুলের খরচ দিতে পারছেন না ঠিকমতো।
  • বাবা মা: চিন্তিত তারা সবসময়। হয়তো আপনার ঋণ শোধ করছেন। তাদের সঞ্চয় শেষ হচ্ছে দ্রুত।

পঞ্চাশ হাজার টাকা ঋণ করলে সেটা শোধ করতে পরিবারকে মাসের পর মাস কষ্ট করতে হবে। ভালো খাবার খেতে পারবে না। অসুখ হলে ডাক্তার দেখাতে পারবে না ঠিকমতো।

আপনার সন্তান দেখছে সব: জুয়াড়ি বাবা মায়ের সন্তানরা নিজেরাও জুয়াড়ি হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। যা করছেন আপনি, তাই শিখছে তারা।

কখন সাহায্য লাগবে

এগুলো হলে একা সমাধান করার চেষ্টা করবেন না একদম।

  • জুয়া ছাড়া আর কিছুতে মজা পাচ্ছেন না
  • সব শেষ মনে হচ্ছে বা আত্মহত্যার কথা ভাবছেন
  • ঋণ এত বেশি যে শোধ করা অসম্ভব মনে হচ্ছে
  • পরিবার ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে
  • চাকরি হারিয়েছেন বা হারানোর ঝুঁকিতে আছেন

লজ্জার কিছু নয় এগুলো। দুর্বলতা নয় সাহায্য চাওয়া। বরং সাহস লাগে।

বাংলাদেশে জুয়া আসক্তির জন্য বিশেষ হেল্পলাইন নেই এখনো। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাহায্য করতে পারেন। লজ্জা না করে যোগাযোগ করুন তাদের সাথে।

সুস্থ হওয়া যায়

কঠিন জুয়া আসক্তি থেকে বের হওয়া। কিন্তু অসম্ভব নয় একদম। অনেকে সুস্থ হয়েছে। আপনিও পারবেন।

প্রথমে যা করবেন:

  • স্বীকার করুন সমস্যা আছে আপনার
  • কাউকে বলুন। পরিবার হোক, বন্ধু হোক বা ডাক্তার
  • সব জুয়ার সাইট থেকে নিজেকে ব্লক করুন
  • আপনার কার্ড, অ্যাকাউন্ট পরিবারের কাউকে দিয়ে দিন
  • মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন দ্রুত

দীর্ঘমেয়াদে যা করতে হবে:

  • সাপোর্ট গ্রুপে যোগ দিন নিয়মিত
  • নতুন শখ খুঁজুন যা আপনাকে ব্যস্ত রাখবে
  • ঋণ শোধের পরিকল্পনা করুন ঠিকমতো
  • যেসব জায়গা বা মানুষ আপনাকে জুয়া খেলতে প্রলুব্ধ করে, এড়িয়ে চলুন তাদের

সুস্থ হওয়ার পথে অনেকে আবার জুয়া খেলে ফেলে। স্বাভাবিক এটা। গুরুত্বপূর্ণ হলো আবার চেষ্টা করা। হাল ছেড়ে দেবেন না কখনো।

থামা আপনার ভাবনার চেয়ে সহজ। যদি সঠিক সময়ে থামেন। এই পেজটা সবসময় এখানে থাকবে যখন দরকার হবে আপনার।